গুরুত্বপূর্ণ এই সংযোগ সড়কে দ্রুত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি

রাজশাহী মহানগরীর কাশিয়াডাঙ্গা থানার অন্তর্গত লিলি হল বাইপাস মোড় এখন সাধারণ মানুষের কাছে এক নীরব আতঙ্কের নাম। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ, শিক্ষার্থী, শ্রমজীবী, রোগী বহনকারী যানবাহন, অটোরিকশা, সাইকেল আরোহী ও পথচারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সড়ক অতিক্রম করছেন। অথচ এত গুরুত্বপূর্ণ একটি মোড়ে নেই পর্যাপ্ত ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ, নেই কার্যকর নিরাপত্তা ব্যবস্থা, নেই পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা— যেন মানুষের জীবনের কোনো মূল্যই নেই।

এই সড়ক শুধু একটি স্থানীয় রাস্তা নয়; এটি রাজশাহী শহরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও ব্যস্ত সংযোগপথ। চাঁপাইনবাবগঞ্জ থেকে রাজশাহী হয়ে ঢাকাগামী অসংখ্য দূরপাল্লার যানবাহন প্রতিদিন এই রাস্তা ব্যবহার করে। এখান থেকে পূর্ব দিকে নওদাপাড়া আমচত্বর হয়ে রেলগেটে যাওয়া যায়, আবার খড়খড়ি বাইপাস হয়ে নাটোর-ঢাকা মহাসড়কেও সংযুক্ত হওয়া সম্ভব। অন্যদিকে রয়েছে নওগাঁ মহাসড়কের সংযোগ। ফলে দিন-রাত অবিরাম যান চলাচলে এই এলাকা সবসময় ব্যস্ত থাকে।

শুধু তাই নয়, আমচত্বর-চাঁপাই মহাসড়কের পাশেই অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ গরুর হাট “সিটি হাট”। দক্ষিণ দিকে বিস্তৃত গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দিয়ে ডাবতলা, রাজশাহী বিভাগীয় ক্রিকেট স্টেডিয়াম এবং রাজশাহী মেডিকেল কলেজে যাতায়াত করা হয়। অর্থাৎ এই পুরো অঞ্চলটি হাজারো মানুষের জীবন ও জীবিকার সঙ্গে সরাসরি জড়িত।

কিন্তু বাস্তবতা অত্যন্ত ভয়াবহ।

বিশেষ করে:
• ঢাকা-রাজশাহী রুটের দূরপাল্লার বাস
• লোকাল বাস
• বালুবাহী ট্রাক
• ডাম্প ট্রাক
• পণ্যবাহী ভারী যানবাহন

এমন বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে যেন এটি কোনো জনবসতিপূর্ণ এলাকা নয়। প্রতিনিয়ত ভয়ংকর ওভারটেকিং, উচ্চগতির যানবাহনের প্রতিযোগিতা এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণহীনতা সাধারণ মানুষের জীবনকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দিচ্ছে।

সবচেয়ে বেশি আতঙ্কে থাকেন স্থানীয় সাধারণ মানুষ। প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, অটোরিকশা চালক, সাইকেল আরোহী ও পথচারীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হন। একটি ছোট ভুল, একটি বেপরোয়া ওভারটেকিং অথবা একটি অতিরিক্ত গতি— মুহূর্তেই কেড়ে নিতে পারে একটি তাজা প্রাণ, ধ্বংস করে দিতে পারে একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ।

স্থানীয়দের অভিযোগ, এখানে প্রায়ই দুর্ঘটনার আশঙ্কাজনক পরিস্থিতি তৈরি হলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয় না। দুর্ঘটনা ঘটলে কিছুদিন আলোচনা হয়, তারপর আবার সব আগের মতো হয়ে যায়। অথচ একটি প্রাণ হারানোর আগেই প্রয়োজন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা।

রাতের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট না থাকায় পুরো মোড় অনেকাংশে অন্ধকারে ডুবে থাকে। দূরের ক্ষীণ আলো ছাড়া অনেক সময় গাড়ির গতি ও দিক বোঝা কঠিন হয়ে পড়ে। এর ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বেড়ে যায়। একই সঙ্গে পর্যাপ্ত সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড না থাকায় চালকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয় এবং সাধারণ মানুষ আরও বেশি ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।

বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হলো, লিলি হল মোড়ের উত্তর পাশ দিয়ে দারুসা অভিমুখী গুরুত্বপূর্ণ সড়ক থাকায় প্রতিনিয়ত ছোট যানবাহন ও পথচারীদের চাপ বৃদ্ধি পাচ্ছে। কিন্তু সেখানে নেই কোনো ট্রাফিক পুলিশ, নেই গতিনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা, নেই নিয়মিত মনিটরিং।

স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, এই গুরুত্বপূর্ণ মোড়টিতে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে ভবিষ্যতে বহু প্রাণহানি ও দুর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব। কারণ এই সড়ক শুধু বর্তমানের জন্য নয়; ভবিষ্যতে আরও বেশি যানবাহন ও মানুষের চাপ বহন করবে। রাজশাহীর বাণিজ্য, যোগাযোগ ব্যবস্থা, সিটি হাট, মেডিকেল ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এই সংযোগপথের গুরুত্ব দিন দিন আরও বাড়ছে।

একটি উন্নত শহর শুধু বড় বড় ভবন বা প্রশস্ত রাস্তা দিয়ে গড়ে ওঠে না; মানুষের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করার মাধ্যমেই প্রকৃত উন্নয়ন প্রতিষ্ঠিত হয়।

সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কাছে স্থানীয় জনগণের জোর দাবি:
• অবিলম্বে লিলি হল বাইপাস মোড়ে ট্রাফিক পুলিশ নিয়োগ করা হোক
• বেপরোয়া ওভারটেকিং ও অতিরিক্ত গতি নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হোক
• পর্যাপ্ত স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা হোক
• সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড ও স্পিড ব্রেকার বসানো হোক
• নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে আইন অমান্যকারী চালকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হোক
• এলাকাটিকে দুর্ঘটনাপ্রবণ জোন হিসেবে চিহ্নিত করে দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করা হোক

আমরা আশা করি, রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন, ট্রাফিক বিভাগ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসন বিষয়টি মানবিক ও জননিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবেন এবং দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

কারণ আজকের অবহেলা আগামীকালের একটি অকাল মৃত্যুতে পরিণত হতে পারে।